বাংলাদেশের বড় ক্ষতি করেছে স্পিনে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড বধ…

দুই দশক পেরিয়ে যাওয়ার পরও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেন নবীনতম সদস্য। বছরের পর বছরে পেরিয়ে যায়, ক্রিকেটাররা আশার বাণী শোনান, সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড কর্তাদের কথারও ফুলঝুড়ির দেখাও যায়, তবে দেখা মেলে না সাদা পোশাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির।

রঙিন পোশাকে (ওয়ানডে সংস্করণে) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ যতটা উন্নতি করেছে অযত্নে থাকা টেস্ট ক্রিকেটে ততটাই পিছিয়ে পড়েছে মুমিনুল হকের দল। নানা সময়ে সাফল্যও এসেছে, তবে সেটা কাজে লাগিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের পরিণত হয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে টাইগারদের সবচেয়ে বড় দুটি সাফল্য ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারানো।

উপমহাদেশের বাইরের দুই দলকে বাংলাদেশের বড় অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছিল ঘরের মাঠের সুবিধায় স্পিন নির্ভর উইকেট। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশ কেবল জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট জিততো। তবে চান্দিকা হাথুরুসিংয়ের সময়ে এসে বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে শুরু করে টাইগাররা। ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে স্পিন দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করার পরিকল্পনায় হাঁটতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে সময় বদলাতে সেটিই বাংলাদেশর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন রাসেল ডমিঙ্গো।

টাইগারদের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে স্পোর্টিং উইকেটে টেস্ট খেলায় মনোযোগ দেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। সর্বশেষ তিন টেস্টে স্পোর্টিং উইকেট বানালেও ফল বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর শ্রীলঙ্কার কাছেও হার, ঢাকা টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্পিন দিয়ে টেস্ট জেতার পরিকল্পনাকে দায়ী করলেন ডমিঙ্গো। বাংলাদেশের প্রধান কোচ মনে করেন, স্পিন দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে হারানো বাংলাদেশের লাভের চেয়ে ক্ষতিই করেছে।

এ প্রসঙ্গে ডমিঙ্গো বলেন, ‘এটা (অতি স্পিন নির্ভর উইকেট) হয়তো আমাদের একটা টেস্ট ম্যাচের জন্য সাহায্য করবে। কিন্তু দীর্ঘ পরিসরের জন্য টেস্ট দল গড়তে সাহায্য করবে না। আগের টেস্ট জয়গুলোর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ওই টেস্ট জয় আমাদের পরে হয়তো ক্ষতিই করেছে। কারণ, এরপর ভালো উইকেটে যখন খেলেছি, তখন ভালো করিনি। আমরা যদি স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে খেলি, এরপর ঘরের বাইরে ভালো উইকেটে খেলি,

তাহলে আমাদের কোনো সুযোগই থাকবে না।’ মিরপুরের উইকেটে বরাবরই স্পিনাররা রাজত্ব করেন। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে দেখা মিলেছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। পুরো টেস্টেই দাপট দেখিয়েছেন পেসাররা। ব্যাটাররা রান তুলেছেন অনায়াসে। দুই দল মিলে করেছেন পাঁচ সেঞ্চুরি। তবুও লঙ্কানদের সঙ্গে পেরে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। এদিন ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, টেস্টের সংস্কৃতি গড়তে হলে আর ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে উন্নতি করতে চাইলে ভালো উইকেটে খেলার বিকল্প দেখছেন না।

ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমাদের টেস্ট সংস্কৃতি গড়তে হলে, ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনতে হলে ভালো উইকেটে খেলতে হবে। এই টেস্টের উইকেট ভালো ছিল। টেস্টের পঞ্চম দিন ফল এসেছে, ভালো উইকেট! চট্টগ্রাম ফ্ল্যাট ছিল। কিন্তু সেখানেও ফল হতে পারত। ওরা বাজে উইকেটে খেলে অভ্যস্ত তাই ভালো করতে পারছে না। আমি হতাশাটা বুঝতে পারছি। যত ভালো উইকেটে আমরা খেলব, ক্রিকেটারদের উন্নতিও ততো ভালো হবে।’

টেস্টে দরুণ বিপর্যয়ে থাকলেও চট জলদি ফলাফল চান না ডমিঙ্গো। এভাবে খেললে দল উন্নতি করতে পারবে না বলে মনে করেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। ডমিঙ্গো বলেন, ‘আমি জানি সবাই জিততে চাচ্ছে। আমি জানি চট জলদি ফলাফলের সুযোগ আছে। বাজে উইকেটে খেলে প্রতিপক্ষকে ১০০ রানে অলআউট করে ফেলে আমরা ১২০ রান করব। এভাবে খেললে দল উন্নতি করবে না। এভাবে খেলেও কিন্তু সিরিজ জিততে পারিনি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.