বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ সম্প্রচার করতে চায় না কোনো চ্যানেল

হারের চোরাবালিতে হাবুডুবু খাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্সের পরে ঘরের মাঠেও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ হেরেছে টাইগাররা। এ সিরিজ শেষে বাংলাদেশ দলের পরবর্তী গন্তব্য নিউজিল্যান্ড।

সফরে কিউইদের বিপক্ষে দুই ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু, সফরের আগে শঙ্কার খবর হলো— নিউজিল্যান্ড সিরিজটি সম্প্রচারের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না কোনো সম্প্রচারক মিডিয়া স্বত্ব গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে, বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার টেস্ট সিরিজটি টিভিতে দেখানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ছয় বছরের ব্রডকাস্ট স্বত্ব কিনেছে টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং কোম্পানি।

তারা বেশ কিছুদিন ধরে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের দুটি টেস্টের স্বত্ব বিক্রির ব্যাপারে চেষ্টা করছে। কিন্তু, কেউই ম্যাচ দুটির সম্প্রচার স্বত্ব নিতে এখনও কেউ আগ্রহ দেখায়নি।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেউ আগ্রহ না দেখালে টিভিতে দেখা যাবে না টেস্ট ম্যাচ দুটি। সেইসঙ্গে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে স্বত্ব কেনা প্রতিষ্ঠান টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিং কোম্পানি। কারণ, দেশে টিভি স্বত্ব বিক্রি করতে না পারলেও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে অর্থ দিতেই হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

এ ব্যাপারে টোটাল স্পোর্টস মার্কেটিংয়ের স্বত্বাধিকারী মইনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ছয় বছরের ব্রডকাস্ট স্বত্ব আমাদের কেনা। কিন্তু, জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে হতে যাওয়া দুটি টেস্ট ম্যাচের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে কেউ এখনও আগ্রহ দেখায়নি। আমাদের কাছে এখনও কোনও বিড আসেনি। আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা করছি। নিজেদের থেকে যোগাযোগ করছি, কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ধারণা করা হচ্ছে—

সিরিজটি শেষ পর্যন্ত অবিক্রিত থাকবে। তাতে টিভি ব্ল্যাকআউট হয়ে যাবে।’ মইনুল হকের কথায়, ‘বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরে যতগুলো সিরিজ খেলবে, সবগুলোর স্বত্ব কেনা আছে আমাদের কোম্পানির। শুধু নিউজিল্যান্ড সিরিজ কেন, আগামী কোনো খেলা নিয়েই কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ যাবে, আয়ারল্যান্ড যাবে—কোনো সিরিজ নিয়েই কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সাধারণত, সিরিজ শুরুর অনেক আগে থেকেই অনেক কোম্পানি সম্প্রচার স্বত্ব কেনার আগ্রহ দেখায়।

কিন্তু, এবার আমরা নিজেরা যোগাযোগ করেও কারো সাড়া পাচ্ছি না। দেখা যাক সামনে কী হয়।’ কী কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ কমেছে, তা নিয়ে মইনুল হক বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বিশেষ করে এ ম্যাচগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, তবুও কেন এমন হচ্ছে! বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খারাপ করেছে, তবুও কিন্তু মানুষ খেলা দেখেছে। নিউজিল্যান্ডে আগের খেলাও ভোররাতে হয়েছে, তবু দর্শক ছিল। কিন্তু, এবার কেন কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছে না, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই।

তবে, করোনা মহামারি সম্প্রচার বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা বিশ্বকাপ, আইপিএলসহ অনেক টুর্নামেন্ট দেখেছি। তবে, সামনের সিরিজগুলো নিয়ে কেন এমন হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাচ্ছি। বাকিটা দেখা যাক।’ এদিকে আগামী ৮ ডিসেম্বর শেষ হবে পাকিস্তান সিরিজ। টেস্ট সিরিজ শেষে ডিসেম্বরেই নিউজিল্যান্ডে উড়াল দেবে বাংলাদেশ দল। সেখানে গিয়ে দুই সপ্তাহ থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে।

মঙ্গানুইতে দুই দলের প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হবে ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি। এরপর ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ৯ জানুয়ারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *