নিজেদের কান বন্ধ করে খেলবে বাংলাদেশ!

যেকোনো দলের ক্ষেত্রেই এটা হতে পারে। একটা সময় আসে যখন কিছুই ঠিকঠাক হয় না। প্রত্যাশার সঙ্গে মেলে না মাঠের পারফরম্যান্স। বাংলাদেশ দলে সম্ভবত এখন সেই সময়টা চলছে। অন্তত টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তো বটেই।বিশ্বকাপ এবং এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজে খুবই হতাশ করেছেন মাহমুদউল্লাহরা।

সে জন্য সমালোচনাও শুনতে হয়েছে। খারাপ খেললে সেটাই হবে, তাই তো স্বাভাবিক। ক্রিকেটারদের কাজ হচ্ছে সেই সমালোচনা কানে না নিয়ে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করার চেষ্টা করা। মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা অবশ্য সমালোচনা ভালোই কানে নিয়েছেন, কখনো কখনো সেগুলোর পাল্টা জবাবও দিয়েছেন। তাতে মাঠে পারফর্ম করার মূল যে কাজ, সেখান থেকে মনযোগ সরে গিয়েছিল কি না, সেই প্রশ্ন তোলাই যায়।

ঠিক এ জায়গাটাতেই ব্যতিক্রম হতে চান টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। প্রথমত, টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতায় ড্রেসিংরুমে যে হতাশ মনোভাব, সেটা টেস্ট সিরিজে টেনে আনতে চান না তিনি। সেই মনোভাব এ সিরিজে খুব একটা থাকবে বলেও মনে করেন না মুমিনুল। টেস্ট সিরিজ শুরুর আগের দিন অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তাই বলেছেন, ‘এই দলে যারা আছে, সবাই কিন্তু মূলত টেস্ট খেলোয়াড়। চার দিনের ম্যাচের খেলোয়াড়।

যেমন: আমি, রাহি (আবু জায়েদ), ইবাদত—সবাই কিন্তু মূলত টেস্ট খেলোয়াড়। আমরা সবাই আমাদের দায়িত্বটা জানি। এখানে ওই জিনিসটা মনে হয় না (টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার হতাশা) খুব বেশি প্রভাব ফেলবে। তবে আমরা তো আবেগপ্রবণ মানুষ। তাই সবাই সবাইকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’ সংস্করণ যেহেতু আলাদা তাই মুমিনুল শুরুও করতে চান নতুন উদ্যমে। সেটার জন্য কী করতে হবে? মুমিনুলের উত্তর, ‘এ সময়ে মানসিকভাবে অনেকে দুর্বল হয়ে যায়।

দুর্বল হই এই কারণে যে আমরা বাইরের কথাগুলো অনেক বেশি নিই। আমি চেষ্টা করছি, বাইরের কথায় কান না দিয়ে সবাই যেন নিজের কাজে মনোযোগ দিই, সেটা করার।’ এ জন্য টেস্ট অধিনায়ক নিজের মতো করে একটা উপায়ও বের করেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই খারাপ সময় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের নিজের কাজেই মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, বাইরে লোকে কথা বলবেই। আপনি তো মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। তাই আমার কাছে মনে হয় যে নিজের কান বন্ধ রাখতে হবে।

এটাই আমি বিশ্বাস করি। সবাইকে সেটাই বলেছি। সবাই সেই ভাবেই কাজ করছে।’ মুমিনুলের আশা, শিগগির এ ব্যর্থতার বলয় থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ, ‘দেখুন এমন কিন্তু নতুন নয়। বাংলাদেশ দল এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে আগেও গেছে এবং সেখান থেকে বেরিয়েও এসেছে। এবারও আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *